Home 1stpage ‘চীনা অস্ত্র আমেরিকার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে শুরু করেছে’

‘চীনা অস্ত্র আমেরিকার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে শুরু করেছে’

69
0

chinaআন্তর্জাতিক: চীনের তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্র আগামি ১০ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজার সয়লাব করে ফেলবে; ফলে অস্ত্র বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে এবং আমেরিকার পক্ষে অন্য দেশে সামরিক ভাবে হস্তক্ষেপ করা কষ্টকর হয়ে উঠবে। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি বা এফপি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ‘চায়না’স উইপন্স অব মাস কনজামশন’ নামের একটি নিবন্ধে  বিশ্বের অস্ত্র বাজারে বেইজিং’এর ক্রম বর্ধমান ভূমিকার বিশ্লেষণ করেছে এফপি।

 ক্ষুদ্র অস্ত্র থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র নির্মাণের দিকে চীনের এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে ২০১১ সালে। সে বছর  দেশটি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কাছে ড্রোন বিক্রি করেছে। এ ছাড়া, ২০১২ সালে আলজির্য়াসে তিনটি ফ্রিগেট সরবরাহ করে চীন। এর এক বছর পরে আমেরিকা, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে তুরস্ক চীনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে। তুরস্কের এ পদক্ষেপে হতচকিত হয়ে যায় বিশ্বের প্রধান অস্ত্র রফতানিকারক দেশগুলো।

 সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে ওঠে-পড়ে লেগেছে চীন। এ লক্ষ্য অর্জনে অস্ত্র নির্মাণের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নকল করার কাজে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন খাতেও করেছে ব্যাপক বিনিয়োগ।

 এরই মধ্যে ব্যাপক এ বিনিয়োগের সুফল ঘরে তুলতে শুরু করেছে চীন। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মধ্য মার্চের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও রাশিয়ার পর বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে চীন। প্রতিদ্বন্দ্বী রফতানিকারক দেশগুলোর তুলনায় চীনের অস্ত্র সস্তা। তবে এ সব অস্ত্র আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো উন্নত মানের না হলেও তা ভাল । এ সব কথাও বলা হয়েছে পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদনে।

 চীনের তৈরি নিত্য ব্যবহার্য ইলেক্ট্রনিকের ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছে আগামি বছরগুলোতে তেমনটি অত্যাধুনিক অস্ত্রের বেলায়ও ঘটবে। অর্থাৎ দাম অব্যাহত ভাবে কমতে থাকবে আর বাড়তে থাকবে মান।  এফপি’র বিশেষজ্ঞ জোসেফ ই লিন এ কথা বলেছেন।

 অস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে চীনের পাশাপাশি ভারতের উত্থানও আমেরিকার জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

 এফপি লিখেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর এক কালে কেবল শীতল যুদ্ধের সময়কার পুরানো অস্ত্র কেনার সক্ষমতা ছিল। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এ সব দেশ অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান বা জাহাজ থেকে শুরু করে গাইডেড গোলা কিনতে পারবে এবং এ জন্য তাদের অর্থনীতির ওপর তেমন চাপ পড়বে না। এ ভাবে ক্ষুদ্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোরদার হয়ে উঠলে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার না করে সে দেশে আমেরিকা আগ্রাসন চালাতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে মার্কিন সাময়িকীটি। এ ছাড়া, চীন ও ভারতের সস্তা অস্ত্রের কারণে বিশ্বের অস্ত্র বাজারে প্রাধান্য হারাবে আমেরিকা, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here