স্থানীয় ম্যানস এর পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় ৭ আগস্ট ২০২১ শনিবার নিশ্চিত করেছে যে, গত ৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে লা ফ্লেশ শহরের একটি বাসায় এক বাংলাদেশী এক মহিলাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা এবং তার স্বামীকে আহত করার সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ৬ আগস্ট শুক্রবার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
প্রসিকউশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ কারী অভিযুক্ত ঐ ব্যক্তির বয়স ৩২ বছর। তিনি ফ্রান্সে বৈধভাবে বসবাসকারী এবং তার বিরুদ্ধে এদেশে পূর্ব অপরাধের কোন রেকর্ড নেই। পুলিশ হেফাজতে ঐ ব্যক্তি শারীরিক অস্বস্থি বোধ করায় প্রথমে তাকে হাসপাতালে এবং পরে ফৌজদারী গ্রেফতারী পরোয়ানার আওতায় আনা হয়।/সূত্র- ওয়েস্ট ফ্রান্স।
ময়নাতদন্তের ফলাফলে দেখা যায় ৩৩ বছর বয়সী নিহত ঐ মহিলার শরীরের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। ৪১ বছর বয়সী আহত স্বামীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শিশু তিনটিকে শিশু কল্যাণ পরিষেবায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা যায় ৩২ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ৪১ বছর বয়সী স্বামী পারিবারিক সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের পেই দো লা লোয়া বিভাগের সার্ত জেলার লা ফ্লেশ পৌরসভায় ৩ আগস্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজ বাসায় স্বামী ও ঐ দম্পতির অন্য একজন পরিচিত পুরুষের সামনে ছুরিকাঘাতে ঐ বাংলদেশী নারী নিহত হন বলে জানা যায়। স্বামী এবং ঐ পারিবারিক পরিচিত ব্যক্তিটিও এসময় আহত হন। তারা তিন জনই বাংলাদেশী নাগরিক।
ঘটনার দিন রাতে হঠাৎ এক প্রতিবেশী বাচ্চাদের কান্নাজড়িত ভয়ার্ত কন্ঠে মা, মা, মা, মা বলে চিৎকার শুনতে পেয়ে ঐ দম্পতির দরজায় কড়া নাড়ে, চার বার কড়া নাড়ার পর ঐ নারীর স্বামী কাটা ছেঁড়া ও হাতা ভেজা পোশাকে তিন বাচ্ছা সহ বের হয়ে ঐ প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং বলে দরজা খুলবেন না। এই সময় বাচ্ছা গুলো আতঙ্কে কাঁদতে থাকে,ঐ প্রতিবেশী বাচ্চাদের কান্না থামানোর চেষ্টা করেন এবং কি হয়েছে জানতে চাইলে, মেয়ে বাচ্চাটি ঐ প্রতিবেশীকে বলে, “আমার আঙ্কেল আমার আম্মুকে গলাকেটে হত্যা করেছে।” ঘটনার ভয়াবহতা টের পেয়ে ঐ প্রতিবেশী পুলিশকে কল করেন। পুলিশ ঘটতাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেন।
























