Home 1stpage ভাতা অনিয়মের বিতর্কে ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ

ভাতা অনিয়মের বিতর্কে ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ

68
0

ইউরো সংবাদ: যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিমন্ত্রী মারিয়া মিলার বুধবার সকালে পদত্যাগ করেছেন। সরকারি ভাতা নেওয়ায় অনিয়ম এবং সংবাদপত্রের ওপর প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা বির্তকের মুখে তিনি পদত্যাগ করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মিসেস মিলার বলেছেন বিতর্ক সরকারের গুরুত্বর্পূণ কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মিসেস মিলারকে বরখাস্ত করার দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন, তিনি (মিলার) কোনো অপরাধ করেনি এবং তাঁর ভুলের জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। পার্লামেন্টে আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্ব এবং নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের সাথে একটি পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকের প্রাক্কালে তাঁর মন্ত্রীসভার এই সদস্য পদত্যাগ করলেন। দলীয় এমপিদের একটি বড় অংশই তাঁকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী মারিয়া মিলার হলেন সংবাদমাধ্যমের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং সংবাদপত্রের জবাবদিহিতার বিষয়ে সংস্কারের লক্ষ্যে তিনি একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে, ব্রিটেনের মূলধারার সংবাদপত্রগুলো তাঁর প্রস্তবের  বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

ঐতিহ্যগতভাবে কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থক দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলে, মিসেস মিলার লন্ডনের যে বাসভবনের জন্য ভাতা নিয়েছেন সেই বাসায় তাঁর পিতামাতা থাকতেন। সেকারণে নিয়ম অনুযায়ী ওই বাড়ির জন্য তিনি ভাতা নিতে পারেন না। অনিয়মের সংবাদটি প্রকাশের সময় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পত্রিকাটির সংবাদদাতাকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন বলেও সে সময়ে অভিযোগ ওঠে। সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের পর এমপিদের বেতন-ভাতা নিরীক্ষা এবং নৈতিকতার ওপর নজরদারির জন্য প্রতিষ্ঠিত কমিশন অভিযোগটি তদন্ত করে এবং ওই অনিয়মের জন্য তাঁকে ৪৫ হাজার পাউন্ড ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু, পরবর্তীতে এমপিদের নৈতিকতার মানবিষয়ক কমিটি ওই কমিশনের প্রতিবেদন (রিপোর্ট) পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তাঁকে মাত্র ৫ হাজার ৮শ পাউন্ড ফেরত দিতে হবে। তারা একইসাথে তাঁকে পার্লামেন্টে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

গত সপ্তাহে মিসেস মিলার পার্লামেন্টে ৩২ সেকেন্ডের এক বিবৃতিতে ক্ষমা চাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সবদলের মধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমপিদের নৈতিকতার বিষয়ে পার্লামেন্টারি কমিটির ক্ষমতা এবং গঠনপ্রকৃতি সংস্কারেরও দাবি ওঠে। সংবাদপত্রকে ভয় দেখানোর অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাখান করার পর দ্য টেলিগ্রাফ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্তকর্তার সাথে সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতার কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ করে দেয়। এরপর থেকেই মন্ত্রী হিসাবে তাঁর অবস্থান নিয়ে জল্পনা-কল্পনা বাড়তে থাকে। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি নিজের আস্থা প্রকাশ করে তাঁকে বরখাস্ত করতে অস্বীকৃতি জানান।

এখন মিসেস মিলারের পদত্যাগের পর হাউস অব কমন্সে বিরোধীদলের ছায়া লিডার অব দ্য হাউজ অ্যাঞ্জেলা ইগল বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর বিচারবোধ এখন আরও প্রশ্নবিদ্ধ হোল। কেননা, তিনি মিসেস মিলারের ভূমিকাকে সমর্থন করেছিলেন এবং এমপিদের নৈতিকতার বিষয়ে জনগণের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here