Home 1stpage রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করেছে আমেরিকা

রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করেছে আমেরিকা

63
0
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন

ইউরো সংবাদ: ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল জন কিরবি বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করেছে। স্থগিত হয়ে যাওয়া সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় উচ্চ পর্যায়ের সামরিক বৈঠক, পরস্পরের বন্দর পরিদর্শন এবং পরিকল্পিত সব যৌথ সামরিক সম্মেলন।

 

পাশ্চাত্যপন্থী সরকার বিরোধী আন্দোলনে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের পতনের পর দেশটির সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ইয়ানুকোভিচের পতনের পর ইউক্রেনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল ক্রিমিয়ায় সেনা পাঠিয়ে কার্যত অঞ্চলটি দখল করে নিয়েছে রাশিয়া।

 

কিরবি জানান, “আমরা রাশিয়াকে ইউক্রেন সংকটের বিস্তার রোধ করার এবং ক্রিমিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

রাশিয়া ক্রিমিয়ায় সেনা পাঠানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অভিযোগ করেছেন, ক্রিমিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করতে চায় মস্কো। তবে ক্রিমিয়ায় অভিযান পরিচালনাকারী রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিট বলেছে, ক্রিমিয়ায় মোতায়েন ইউক্রেনের সেনা ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাসিক দপ্তর হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা সোমবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা ইউক্রেনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সিনিয়র সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস, অর্থমন্ত্রী জ্যাক লিউ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মার্টিন ডেম্পসি উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে গতকাল মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছিল, ক্রিমিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে ওয়াশিংটন। মার্কিন সরকার ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এরইমধ্যে মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। ওয়াশিংটন বলেছে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করে তাহলে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য মস্কো ‘এককভাবে দায়ী’ থাকবে।

 

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে। এর আগে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সোমবার বলেছিলেন, ইউক্রেনে বসবাসরত রুশ নাগরিক ও রুশ ভাষাভাষি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশটিতে সেনা পাঠিয়েছে মস্কো। ইউক্রেনের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখা হচ্ছে সেনা পাঠানোর মূল লক্ষ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here