Home 1stpage আমেরিকা ও সৌদি আরব নতুন করে সিরিয়া বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত

আমেরিকা ও সৌদি আরব নতুন করে সিরিয়া বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত

66
0

আন্তর্জাতিক: শান্তিপূর্ণ উপায়ে সিরিয়া সমস্যা সমাধানের জন্য যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক কূটনৈতিক ততপরতা চলছে তখন আমেরিকা ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারাও নতুন করে সিরিয়া বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

 মার্কিন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা সংস্থার প্রধান জোসেফ ডাব্লিউ র‍্যাখসি কয়েকদিন আগে সৌদি আরব সফরে গেছেন। এ সফরকালে সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। গতকাল জেদ্দায় তিনি সৌদি আরবের যুবরাজের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সিরিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিশেষ করে সেদেশে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যাবহারের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের কর্মকর্তাদের মধ্যে তাদের আলোচনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যাপারে রাশিয়ার দেয়া প্রস্তাবকে যখন সবাই স্বাগত জানিয়েছে ঠিক তখন আমেরিকা ও সৌদি আরব সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালানোর জন্য নতুন করে ক্ষেত্র সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

 আমেরিকা এখনো সিরিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে এবং তাদেরকে আরো আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, সৌদি আরবও সিরিয়ায় হামলা চালানোর পায়তারা করছে এবং দেশটির সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। আমেরিকার ইন্টারনেট ভিত্তিক বার্তা সংস্থা ‘এন্টি ওয়ার’  এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে লিখেছে, সৌদি আরব ১২৩৯ জন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীকে প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সিরিয়ায় পাঠিয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘এন্টি ওয়ার’ বার্তা সংস্থা এ কথা ফাঁস করে দিয়েছে যে, সৌদি আরবের মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীরা সিরিয়ায় ভয়াবহ মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। সৌদি আরবের আসামীরা শুধু যে সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে তাই নয় একই সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার কারণে এসব আসামীদের পরিবারদেরকেও নানা আর্থিক সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এ থেকেই সিরিয়ার ব্যাপারে সৌদি আরবের অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 রিয়াদ গত আড়াই বছর ধরে আমেরিকার সহায়তায় সিরিয়ায় গোলযোগ জিইয়ে রেখেছে। সৌদি আরব ও কাতারের মত দেশগুলো আমেরিকাকে এ নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে, সিরিয়ায় যদি সামরিক হামলা হয় তাহলে তারা যুদ্ধের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে। বর্তমানে কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় রাশিয়া যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে। কিন্তু, দামেস্ক রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যাপারে রাশিয়ার দেয়া প্রস্তাব মেনে নেয়ার পরও রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের কার্যক্রমে প্রমাণিত হয়েছে, তারা এখনো সিরিয়ায় হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাপারে আমেরিকা ও সৌদি আরবের অবস্থান।

 জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন পূর্ণাঙ্গ না হলেও এবং কারা এ অস্ত্র ব্যবহার করেছে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকলেও রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য সিরিয়া সরকারকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক সমাজকে দেশটির বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এদিকে, বাইরের মদদপুষ্ট সিরিয়ার সন্ত্রাসীরাই যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে সে বিষয়ে অনেক দলিল-প্রমাণ ইরান ও রাশিয়া আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছে।

 বাস্তবতা হচ্ছে, সম্ভাব্য যে কোনো যুদ্ধের আগুন আজ হোক কাল হোক এ অঞ্চলের সব দেশকেই গ্রাস করবে। যেসব আরব দেশ সিরিয়ায় যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে সেই আগুনে তারাও জ্বলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here