Home 1stpage আইসিসির বর্ষসেরা ‘উদীয়মান’ ক্রিকেটার মোস্তাফিজ

আইসিসির বর্ষসেরা ‘উদীয়মান’ ক্রিকেটার মোস্তাফিজ

78
0

mostafizস্পোর্টস: পুরস্কারটা তিনি পেতে পারতেন গত বছরই। সেটি পাননি। তবে এক বছর পিছিয়ে গেলেও পুরস্কারটা জিতে বাংলাদেশের জন্য গৌরবই বয়ে এনেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৫-১৬ মৌসুমে আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ বাঁহাতি পেসার।

ছোট্ট এই ক্যারিয়ারে অনেক অর্জন মোস্তাফিজের। তবে এই স্বীকৃতিটা তাঁর কাছে অবশ্যই বিশেষ কিছু। বাংলাদেশের ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির কোনো বর্ষসেরা পুরস্কার জয়ের ঘটনা যে এই প্রথম। মোস্তাফিজের গত বছরটা ছিল সোনায় মোড়ানো। ক্রিকেটের তিন সংস্করণের অভিষেকেই আলোড়ন ছিলেন মোস্তাফিজ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছেন। তবু গত মৌসুমে আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কার পাননি, সেই ‘আফসোস’ তাঁর দূর হলো এবার।

আইসিসির বর্ষসেরা খেলোয়াড়দের নির্বাচন করেছে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কমিটি। যে কমিটিতে আছেন আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর সাংবাদিকেরাও। বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি ছিলেন প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্রও। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। এই সময়সীমার পারফরম্যান্সই বিবেচনা করা হয়েছে আইসিসির বর্ষসেরা নির্বাচনে। নির্ধারিত সময়ে মোস্তাফিজ তিন ওয়ানডে খেলে উইকেট নিয়েছেন ৮টি। গত বছরের শেষ থেকে এই বছরের শুরুতে বাংলাদেশ বেশি ব্যস্ত ছিল টি-টোয়েন্টিতে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে মোস্তাফিজের পরিসংখ্যানটা তাই বেশি উজ্জ্বল, ১০ ম্যাচ তাঁর উইকেট ১৯টি। গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ‘ফিজে’র ২২ রানে ৫ উইকেট ছিল টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং।

পুরস্কারটা যে তিনি পেতে যাচ্ছেন খবরটা হয়তো আগেই জানতেন মোস্তাফিজ। তবে সতীর্থদের কাউকে বলেননি। কাল ওয়াঙ্গারেইয়ের কোবহাম ওভালে নিউজিল্যান্ড একাদশের সঙ্গে ম্যাচের পর দলের সবাই খবরটা জানতে পারে। মাশরাফি-সাকিবরা তখনই তাঁকে ভাসিয়ে দেন অভিনন্দন আর ভালোবাসার বৃষ্টিতে। এই অর্জনে আপ্লুত মোস্তাফিজও, ‘প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই পুরস্কার জিতে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলাটা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বিরাট স্বপ্ন। এটি আমার জন্যও স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো ব্যাপার। আমাকে যাঁরা সহায়তা করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।’

বছরজুড়েই চোটের সঙ্গে লড়তে হয়েছে মোস্তাফিজকে। জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাঁ কাঁধে, মার্চে এশিয়া কাপে ডান পাঁজরে, মে মাসে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করে মোস্তাফিজ ফেরেন হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাঙ্কেলের চোট নিয়ে। জুলাইয়ে সাসেক্সের হয়ে ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়ে চোট পান বাঁ কাঁধে। চোট সারিয়ে দলে ফিরেছেন বছরের একেবারে শেষ দিকে। তবু বছরটা মোস্তাফিজের কাছে স্মরণীয় করে রাখছে আইসিসির এই পুরস্কার, ‘পুরস্কারটি এই বছরে আমার পাওয়া সেরা উপহার। এটা আমাকে সামনে আরও ভালো করতে উৎসাহ জোগাবে।’

মোস্তাফিজ সেই ‘ভালো’টা নিশ্চয়ই শুরু করতে চাইবেন ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু নিউজিল্যান্ড সিরিজেই।//প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here