ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবারের হরতালকে সামনে রেখে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ নজরদারি। যে কোন ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় ১০ হাজার পুলিশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কূটনৈতিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য সতর্ক রয়েছে। যে কোনও ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল ওয়েপন অ্যান্ড টেকটিস (সোয়াত), বোম ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, ডগ স্কোয়াড। রাজধানীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে বসানো হয়েছে নতুন সিসি টিভি ও গোপন মুভি ক্যামেরা। বেশকিছু পয়েন্টে নতুন করে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে এবং তল্লাশি করা হচ্ছে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নেয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ভবনগুলো।
কারাগারের নিরাপত্তার বিষয়ে কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ঢাকা) গোলাম হায়দার বলেন, ফাঁসির রায়কে ঘিরে আরও আগে থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে বন্দিদের ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। সব ধরনের আশঙ্কা মাথায় রেখেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, সাকা চৌধুরী এবং মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল থাকলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া আগাম প্রতিবেদন অনুসারে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতি বার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেছেন, তার দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে হত্যার ষড়যন্ত্র দেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ আবেদনের চূড়ান্ত রায়ে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতি বার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, তার দলকে নেতৃত্ব শূন্য করতে সরকার নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করেছে। সরকারি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার উদ্দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মিথ্যা অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও নেই। এতদসত্ত্বেও সরকারের মিথ্যা মামলায় মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি রিভিউ আবেদন করলে তা খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এ রায়ে মুজাহিদ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মকবুল আহমাদ বলেন, যে মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলাধীন কোন থানায় বা বাংলাদেশের অন্য কোন থানায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত কোন অপরাধের জন্য মামলা হয়েছে- এমন কোন তথ্য তিনি তার তদন্তে পাননি। মামলার আইও এটাও স্বীকার করেছেন যে, মুজাহিদ আল-বদর, শান্তি কমিটি, রাজাকার বা আল-শামস এই ধরনের কোন সহযোগী বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন- এমন কোন তথ্য তিনি তার তদন্তকালে পাননি।
এতে গোটা বিশ্ববাসীর নিকট এ কথা অত্যন্ত স্পষ্ট, বিনা অপরাধে এবং আনীত অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু রাজনৈতিক কারণে মুজাহিদকে হত্যার উদ্দেশ্য এ দণ্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা জাতি এ রায়ে হতাশ হয়েছে। তিনি বলেন, মুজাহিদকে সরকারি ষড়যন্ত্রে হত্যা করা সম্ভব হলেও তার রাজনৈতিক আদর্শ কখনও হত্যা করা সম্ভব নয়।