
মর্মান্তিক এ ঘটনায় অন্তত ৩০০ মানুষ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৬৫ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করলেও তার আগেই লাশ হয়ে যান ১১১ জন মানুষ। তবে আরো অনেক লাশ ভূমধ্যসাগরের স্রোতে ভেসে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। নৌকাটির নাবিক তিউনিশিয়ার নাগরিক। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লাম্পোডুসার এক দোকানদার গভীর রাতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের আর্তনাদ শুনেছেন, ঘর থেকে বেরিয়ে যা দেখেছেন, সেই দৃশ্য তার ভাষায়, এক কথায় দুঃস্বপ্নের মতো। এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতি বছর গ্রীষ্মে কাজের খোঁজে হাজার হাজার আফ্রিকান নাগরিক উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে ইটালির দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছেন। দুঃস্বপ্নের ঘোর এখনো কাটেনি। হোটেলকর্মী রোজেলা মানুচ্চি ছুটে গিয়েছিলেন মানুষ বাঁচাতে, তার আফসোস, অভাগা মানুষগুলোর জন্য ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। পিয়েত্রো বারতোলো মাত্র ৬ হাজার মানুষের দ্বীপ লাম্পেডুসার এক ডাক্তার। তিনি বলছিলেন, শিশুদের লাশ দেখাটা সবচেয়ে কষ্টের। ওদের বাঁচানোর কোনো উপায় ছিল না। আমার ২০ বছরের পেশাদার জীবনে এমন দৃশ্য কখনো দেখিনি। এদিকে ঘটনার পর ইউরোপের অভিবাসন আইনের সমালোচনা করে এর পরিবর্তন দাবি করেছেন অনেকে।
জাতিসংঘের মহাসচিব ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি আশা করেন, অচিরেই আইনে পরিবর্তন আসবে, পরিবর্তিত আইনে অভিবাসনের অধিকারের প্রতি আরো সম্মান দেখানো হবে এবং আরো বেশি মানুষ ভাগ্যান্বেষণের জন্য ইউরোপে আসতে পারবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার সেসিলিয়া মামস্ট্রোয়েম এমন পরিবর্তনের জন্য ইউরোপ অঞ্চলের দেশগুলোকে উদ্যোগী হবার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য মনিকা ফ্রাসোনি মনে করেন, ইটালি অভিবাসীদের চাপ সামাল দেয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তাই ইইউকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে। এ বছর অভিবাসন প্রত্যাশী অন্তত ২৫ হাজার মানুষ ইটালিতে এসেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অনুমান, গত ২০ বছরে ভাগ্যান্বেষণের জন্য মাছ ধরা নৌকায় চড়ে ইটালিতে ঢুকতে গিয়ে ১৭ থেকে ২০ হাজার মানুষ মারা গেছেন।