
গত বছর এক প্রতিবেদনে সিটিসেলের সবচেয়ে বড় অংশীদার সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল জানিয়েছে, ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের লোকসান হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলার। তার আগের বছর তাদের লোকসানের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলার। এখানেও দেখা যাচ্ছে প্রত্যেক বছর কোটি ডলার করে লোকসান বাড়ছে। নেটওয়ার্ক কাভার করার দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে পড়েছে। দেশে যখন গ্রামীণফোন বা রবির মতো প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজারের বেশি বিটিএস (বেস ট্রানসিভার স্টেশন) রয়েছে সেখানে বর্তমানে সিটিসেলের মোট বিটিএস ৮৬০টি। আর সব শেষ তাদের সব থেকে বড় সংকট হচ্ছে থ্রিজি তরঙ্গ নিলামে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পরও অর্থের অভাবে গত বৃহস্পতিবার সিটিসেল দুই কোটি ডলারের আর্নেস্টমানি জমা দিতে পারেনি। ফলে আগেভাগেই ছিটকে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিটিসেলের এই আর্থিক সংকটের কারণও বেশ স্পষ্ট। দেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা দশ কোটি ৬৯ লাখ ৩৪ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও প্রতি মাসেই গ্রাহক হারাচ্ছে সিটিসেল। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, কেবল জুলাই মাসে সিটি সেলের গ্রাহক সংখ্যা ১৩ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১৩ লাখ ৬১ হাজারে নেমে এসেছে। গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ। বছরের শুরুতে তাদের সেবা নিত ১৫ লাখের বেশি গ্রাহক। গত ৩ বছরে সিটিসেল ৫ লাখ ৯২ হাজার গ্রাহক হারিয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়াত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকসহ ও চার বেসরকারি অপারেটরের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংখ্যা জুন মাসের তুলনায় বেড়েছে, কমেছে কেবল সিটিসেলের। ওই সময় পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ, যা জুন মাসে চার কোটি ৪০ লাখ ছিল। বাংলালিংকের গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৭০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৭৩ লাখ হয়েছে। রবির গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ২৯ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ। এয়ারটেলের গ্রাহক ৭৮ লাখ থেকে ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের ১৯ লাখ ১০ হাজার থেকে বেড়ে ১৯ লাখ ২০ হাজার হয়েছে। কেবল সিটিসেলের ক্ষেত্রে এক মাসে গ্রাহক কমেছে প্রায় ১৯ হাজার; ১৩ লাখ ৮০ হাজার থেকে কমে হয়েছে ১৩ লাখ ৬১ হাজার। সব মিলে গত ৩ বছরে তাদের গ্রাহক কমেছে প্রায় ৬ লাখ! ব্যবসায় যদি ভোক্তাই না থাকে তাহলে সিটিসেল ব্যবসা করবে কার সাথে? এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মুখে মুখে।
এ ব্যাপারে মতামত জানতে যোগাযোগ করা হলে সিটিসেল কর্তৃপক্ষ কেউই কথা বলতে রাজি হননি। তবে এর আগে গত মাসে সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহবুব চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, সিডিএমএ প্রযুক্তির একমাত্র কোম্পানি হওয়ায় গ্রাহকরা হয়তো সিটিসেলে আগ্রহ হারাচ্ছেন। আর ভয়েসকলে গ্রাহক সংখ্যা কমলেও সিটিসেল মূলত এখন ডেটা সার্ভিসের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (সিটিসেলের) ৪৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে সিংটেল এশিয়া প্যাসেফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে। এছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং প্যাসেফিক মোটর লিমিটেড ৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক।
সুত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব