আজিমুল হক খাঁন,ফ্রান্স প্রবাসী, ডকুমেন্টারি নির্মাতা :

‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ চিরকালের এ স্লোগান আর বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে, খালি পায়ে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই শামিল হতে শুরু করেন শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে একযোগে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্যসাধারণ অর্জন। রক্তক্ষয়ী এ দিনটি শোক আর বেদনার মধ্যে আবদ্ধ নেই। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের সর্বজনীন উৎসবের দিন।
বিশ্বের দেশে দেশে বাংলাদেশি কমিউনিটি এই দিনটিকে পালন করে। ২/১ টি দেশে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশিরা এই অনুষ্ঠানটি অয়োজন করে কিন্তু বাকি দেশগুলোতে বিভাজন লক্ষ্য করা যায়। গত তিন বছর যাবৎ ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এমন বিভাজন দেখে আসছি। বাঙালির প্রাণের উৎসবগুলো হয়ে উঠেছে দ্বন্ধ, বিরোধ, আঞ্চলিকতা এবং প্রতিহিংসার মূর্তপ্রতীকে। ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ,গুটিকয়েক পছন্দের মানুষ নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো। গণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো কিছু সফল হয়না, এই বিষয়টি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে কে বোঝাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যানে জানতে পেরেছি, প্যারিসের কয়েক জায়গায় ২১শে ফেব্রুয়ারি পালিত হবে। আয়োজন সংশ্লিষ্ট মানুষদের কাছে আমার প্রশ্ন, মহান ২১শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান আমরা কি একসাথে পালন করতে পারিনা ? এমন বিভাজন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কি বার্তা দেবে ?
২১শে ফেব্রুয়ারির চেতনা শুধূ ভাষা আন্দোলন নয়, বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নকে বেগবান করার আন্দোলনও ছিল। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৭১ এ রক্তাক্ত এক যুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে আনে।
একবারও কি ভেবে দেখেছেন, বাঙালির অর্জনগুলোকে আমরা ছোট করছি প্রতিনিয়ত যা শহীদদের আত্মত্যাগকে ছোট করছে, অবমূল্যায়ন করছে, সেইসাথে মুক্তিযুদ্ধ এবং ২১শের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।
আসুন আর বিভাজন নয়, পদ-পদবীর লোভ নয়, লোক দেখানো কিংবা নাম সর্বস্ব কোনো কর্ম নয়, সম্মিলিতভাবে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করি। কোনো সংগঠনের ব্যানারে কিংবা কোনো নেতা হয়ে নয়, একজন বাঙালি তথা বাংলাদেশি হয়ে শ্রদ্ধা জানাই ভাষা শহীদদের।