খুলনা ০৫ মার্চ -২০১৩ (মঙ্গলবার),এম শিমুল খান, খুলনা অফিস
খুলনায় হরতালে ছাত্রদলের সহ-সভাপতিসহ আটক ৩
খুলনায় ১৪ দলের হরতাল বিরোধী মিছিল
স্বামী প্রণবকে নিয়ে নড়াইলে বাবার বাড়িতে শুভ্রা মুখার্জি
খুলনায় নারীর গলিত লাশ উদ্ধার
ঃ খুলনায় এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্ক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় খুলনা মহানগরীর ছোট বয়রা এলাকার ডা. মশিউর রহমানের বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্ক থেকে লাশটি উদ্ধার হয়। স্থানীয়রা জানান, সেফটি ট্যাঙ্কি থেকে পঁচা লাশের গন্ধ আসায় তারা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান জানান, স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা
এম শিমুল খান, খুলনা অফিস ঃ খুলনার দিঘলিয়ায় এক দিনের ব্যবধানে আবারও এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা। বিলম্বে প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, সোমবার আনুমানিক সকাল ১১ টায় উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের নন্দন প্রতাবের ফরহাদ মৃধার মেয়ে সোনিয়া বেগম (২১) কে তার স্বামী একই ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামের লতিফ মল্লিকের ছেলে সোহেল মল্লিক (২৪) যৌতুকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারপিট করে এবং এক পর্যায়ে গলা টিপে ধরে। এতে ঘটনা স্থলে সোনিয়া মারা যায়। সোনিয়ার লাশ ঘরের বারান্দায় রেখে স্বামী সোহেল মল্লিক ও তার মা মিনি বেগম (৪৫) পালিয়ে যায়। এলাকাবাসি সোনিয়ার বাপের বাড়ি খবর দিলে তার মা এসে দিঘলিয়া থানায় খবর দেয়। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। এ ব্যাপারে সোনিয়ার মা বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে যৌতুক ও নারী নির্যাতন ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন । মামলা নং ০২ তারিখঃ- ০৪/০৩/১৩ ইং। দিঘলিয়া থানা পুলিশ সোহেল মল্লিকের পিতা এজাহার ভূক্ত আসামি লতিফ মল্লিক (৫০) কে গ্রেফতার করেছেন। সোহেল ও তার মাতা পলাতক আছে। সোহেল ও সোনিয়ার ৪ বছর আগে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে সোহেল যৌতুকের কারনে তার স্ত্রী কে প্রায় শারীরিক নির্যাতন করতো বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে । তাদের ১৮ দিনের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সন্তানটি বর্তমানে তার নানীর কাছে আছে। উল্লেখ্য ১ দিন আগে উপজেলার দেয়ারা কলোনির পশ্চিম পাড়ায় স্বামী অসিম সরদার তার স্ত্রী বিথি বেগম (১৯) কে মারপিট করে হত্যা করে।
গণহত্যা, গণমামলা ও গণ গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছে খুলনা জামায়াতে
সরকার তার ফ্যাসিবাদি, চেঙ্গিসীয় ও হিটলারী শাসনের আসল রুপ প্রকাশ করেছে
এম শিমুল খান, খুলনা অফিস ঃ সারাদেশ ব্যাপী গণহত্যা, গণমামলা ও গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী শাখার নেতৃবৃন্দ। খুলনা মহানগরী জামায়াত নেতৃবন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশকে চরম সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। ইসলামী আদর্শের ব্যক্তিত্বদের নামে মিথ্যা দোষারোপ করে সরকারের প্রত্য নির্দেশে বিচার বিভাগকে দিয়ে প্রহসনমূলক রায় প্রদান করিয়েছে। সরকারের এই চরম মিথ্যাচারের প্রতিবাদে দেশের মানুষ আজ একাট্টা হয়েছে। দেশের সর্বস্তরের নারী-পুরুষ এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে। সরকারের নির্দেশে সাধারণ জনতার ওপর পুলিশের গণহত্যা দেশ বিদেশের জনগণকে হতবাক করেছে। পাখির মত গুলি করে এমন গণহত্যা স্বাধীনতাত্তোর নজিরবিহীন ঘটনা। সরকার স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী মনোভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। একটি স্বাধীন দেশের জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকারকে রুদ্ধ করে এমন নৃশংস হত্যাকান্ড চেঙ্গিসীয় বর্বরতাকেও হারিয়ে দিয়েছে। সরকার আজ নব্য হিটলারের ন্যায় অবতীর্ণ হয়েছে। সরকারের গুলি থেকে নারী-শিশু, যুবক-বৃদ্ধ কেউ বাদ যাচ্ছে না। শুধু গণহত্যা নয় গণমামলা দিয়েও সাধারণ জনণের আন্দোলনকে ঠেকানোর পায়তারা চালাচ্ছে। যা একটি দেশের সাধারণ মানুষের মনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গকে খড়কুটো দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার অপপ্রয়াস মাত্র। সরকারের এ দূরভিসন্ধি গণজোয়ারে ছিন্ন বস্তুর ন্যায় ভেসে যাবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের এই বর্বরতা ঢাকতেই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরসহ ১৮ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। যা একটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংসের জন্য সুগভির ষড়যন্ত্র। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এর প্রতিবাদে দেশের হিন্দু মুসলমান সকলেই সোচ্চার। দেশের তৌহিদী জনতা আজ জেগে উঠেছে। দেশের আপমর জনসাধারণের সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গণও এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভির উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ববরেণ্য এ নেতার মুক্তি দাবি করেছে। সরকার তার ফ্যাসিবাদি, চেঙ্গিসীয় ও হিটলারী শাসনের আসল রুপ প্রকাশ করে দিয়েছে। সাধারণে জনগণের আজ আর বুঝতে বাকি নেই এই সরকারের দুরভিসন্ধি। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় দেশের আপামর জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই জুলুমবাজ ও জালেম সরকারের পতন ঘটানো হবে। বিবৃতিদাতারা হলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও খুলনা মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন এবং মাষ্টার শফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী এ্যাডঃ মুহাম্মদ শাহ আলম, খান গোলাম রসুল ও এ্যাড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল প্রমুখ।
খুলনার কয়রায় হরতালে গ্রামে গ্রামে বিােভ মিছিল
ঃ সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনার প্রত্যন্ত জনপদ কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে গ্রামে গ্রামে বিএনপির ডাকা হরতালের সমর্থনে বিএনপি, জামায়াত শিবির কর্মীরা মঙ্গলবার দিনভর বিােভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। ভোর থেকে হরতালকারীরা বিভিন্ন রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে রাখে। এতে মটর সাইকেলসহ সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ থাকে। মঙ্গলবার সকালে হরতালের সমর্থনে বিএনপি, জামায়াত শিবির কর্মীরা চাঁদআলী ব্রিজের ওপর অবস্থান নেয়। সেখানে আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকরা পাল্টা অবস্থান নিলে উভয় পরে মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্তহয়। উপজেলার ৪নং কয়রার তিন রাস্তার মোড়ে সকাল ৮টায় শতাধিক জামায়াত শিবির কর্মী মিছিল বের করে। এ সময় রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে দেয়। উত্তর বেদকাশীর কাছারীবাড়ির রাস্তায় হরতালকারীরা গাছের গুড়ি ফেলে রেখে মিছিল সমাবেশ করে। বতুলবাজার, ঝিলিয়াঘাটা বাজারে হরতালের সমর্থনে সকাল ৮ টায় মিছিল বের হয়। এ সময় আওয়ামী সমর্থকরা মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হরতাল সমর্থনকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। দণি বেদকাশীর ঘড়িলাল বাজারে সকাল ১০টায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা বিােভ মিছিল বের করে। বাগালী ইউনিয়নের ঘুগরাকাটি বাজার ও বামিয়া স্কুল মোড়ে হরতালকারীরা পৃথক দুটি সমাবেশ ও মিছিল করে।
খুলনার কয়রায় সংখ্যলঘুদের বাড়িতে হামলা : ৮টি ঘরে আগুন
ঃ খুলনা জেলার কয়রা থানার আমাদি ইউনিয়ন বাজারে পাশে সংখ্য লঘুদের ধোপা পাড়ায় দুর্র্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে এবং ব্যপক হারে লুটপাট ও ভাংচুর চালায়। হামলা ও লুটপাট শেষে ৮টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আধা ঘন্টা ব্যাপি এ তান্ডব চলে। তান্ডবের এক পর্যায়ে তারা ধোপা পাড়ার কাত্তিক, কিংকর, অমিও, সোনা, সুবল, মুক্তি, পলাশ, ও সংকরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া আরো ৫ টি ঘর-বাড়ি ভাংচুর করে। এ সময় গ্রামবাসী লিটন (২৫) ও আবু সাইদ (২০) নামে দুই দুর্বৃত্তকে হাতে নাতে ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। এ ঘটনার পর খুলনা জেলা পুলিশের এডিশনার এসপি’র নেতৃত্বে কয়েক গাড়ি বিজিবি ও কয়রা থানার ওসি খায়রুল কবিরসহ কয়েক গাড়ি পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এদিকে ভোর থেকে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে গাছের গুগি ফেলে, বালির রাস্তা স্তুুপ করে ও ডালপালা দিয়ে সড়ক আবরোধ করে রাখে হরতাল সমর্থনকারীরা। তবে কয়রা উপজেলা সদরে হরতালের সমর্থনে কোন মিছিল বা পিকেটেং করতে দেখা যায়নি। তবে দোকনপাট বন্ধ ছিল, সরকারী অফিস আদালত খোলা থকলেও কয়রা সদর ছিল জন শুন্য, বিগত দু’দিনের ঘটনার মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করায় কেউ বাড়ি থেকে বাইরে বের হচ্ছে না। বেলা সাড়ে ১০টার উপজেলার আমাদি উইনয়নের খিরোল ভান্ডারপোল এবং বাঘালি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম থেকে কয়েকটি খন্ড খন্ড মিছিল চাদালী ব্রিজে একত্রিত হয়ে মিছিলটি আমাদি বাজারে এসে শেষ হয়।
খুলনায় বিএনপির আহবানে সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত
আ’লীগ-যুবলীগ ক্যাডারদের মহড়া ও সন্ত্রাস এবং ছাত্রলীগের পত্রিকায় অগ্নিসংযোগের নিন্দা
ঃ বিপ্তি ভাংচুর, টায়ারে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরন ও কড়া পুলিশী নজরদারীর মধ্যে বিভাগীয় সদর খুলনায় বিএনপির ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। পিকেটিংয়ের সময় ইকবালনগর থেকে দুই ছাত্রদল নেতাকে বেদম মারপিটের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয় হরতাল বিরোধী যুবলীগ কর্মীরা। খালিশপুর ও দৌলতপুর থানা এলাকায় সকালে হরতালের সমর্থনে কয়েকদফা মিছিল হয়েছে। সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল দু’দফা মিছিল বের করলে পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয়ের প্রবেশের দু’টি পথ কাটাতারের বেরিকেড দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। সকাল পৌনে ৮টায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল খলিল চেম্বারের এলাকায় একটি মিছিল বের করে। পুলিশ ধাওয়া করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এখান থেকে সোহাগ নামে এক যুবককে পিকেটার সন্দেহে গ্রেফতার করে। এ সময় যুবলীগ কর্মীরা সেখানে পৌছে সোহাগকে তাদের দলীয় কর্মী দাবি করে ছাড়িয়ে নেয়। সকাল সোয়া ৮টায় স্বেচ্ছাসেবক দল নিক্সন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে রেলস্টেশনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ধাওয়া করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল ৯টায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কেডিএ এভিনিউ’র ইকবালনগর মোড়ে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে ইকবাল নগর এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ময়লাপোতা মোড়ে সকাল থেকে অবস্থান নেয়া যুবলীগ কর্মীরা ছূটে এসে ইকবালনগরের গলিতে ঢুকে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশী শুরু করে। তারা ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুকের বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও সিটি কলেজের সাবেক জি এস মশিউর রহমান জাদু এবং বাড়ির ছাদ থেকে কমার্স কলেজ ছাত্রদল নেতা শামিম আশরাফকে খুজে বের করে। এরপর ওই বাড়ির চেয়ার ভেঙ্গে পায়া দিয়ে বেদম মারপিট শুরু করে। বাড়ির লোকজন এ কাজে বাঁধা দিলে তাদের সঙ্গে চরম দূর্ব্যবহার করে। চার তলার ওপর থেকে ছাত্রদল নেতাদের আর্তচিৎকার যে সময় ভেসে আসছিল তখন নিচ তলায় পুলিশ নির্বিকারভাবে দাড়িয়ে ছিল। পরে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে যুবদল সিমেট্রি রোডে মিছিল করার উদ্যোগ নিলে পুলিশের তৎপরতায় তা পন্ড হয়ে যায়। এদিকে, সকাল ৮টায় মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌছালে পুলিশ সড়কের দু’প্রান্তে কাটাতারের বেরিকেড স্থাপন করে। এখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের তো দুরের কথা কোন সাধারণ মানুষকে এ রাস্তায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। বেলা ১১টার পরে কড়াকড়ি শিথিল করা হলে একে একে নেতাকর্মীরা হাজির হয়। সেখানে হরতালের সমর্থনে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি’র সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম নূরুল ইসলাম দাদু ভাই। বক্তব্য রাখেন, মনিরুজ্জামান মনি, শফিকুল আলম মনা, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, অ্যাডভোকেট স ম বাবর আলী, অ্যাডভোকেট এস আর ফারুক, রেহানা ঈসা, ফখরুল আলম, অধ্য তারিকুল ইসলাম, মাহবুব কায়সার, আবু হোসেন বাবু, নজরুল ইসলাম বাবু, মেহেদী হাসান দিপু, শফিকুল আলম তুহিন, শের আলম সান্টু, আজিজা খানম এলিজা, হাসিবুল হক বাবলা, ইকবাল হোসেন খোকন, সাদিকুর রহমান সবুজ, এহতেশামুল হক শাওন, আজিজা খানম এলিজা, ইউসুফ হারুন মজনু, মাসুদ পারভেজ বাবু, সাইদ হাসান লাভলু, কে এম হুমায়ুন কবির, এমরানুল কবির নাসিম, একরামূল কবির মিল্টন, শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামূল হক হেলাল, হাসান মেহেদী রিজভী, হাসানুর রশিদ মিরাজ, আব্দুল আজিজ সুমন, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, আব্দুর রহিম বক্স দুদু, শামসুজ্জামান চঞ্চল, আরিফুজ্জামান আরিফ, কামরান হাসান, এবাদুল হক রুবায়েদ, শেখ ফারুক হোসেন, সাইদ শেখ, আফজাল হোসেন পিয়াস, বদরুল আনাম, ওমর ফারুক, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, শেখ আব্দুল জব্বার, মীর কবির হোসেন, মোঃ জামাল উদ্দিন, রোকেয়া ফারুক, বাচ্চু মীর, মহিউদ্দিন টারজান, রাজুল হাসান রাজু, নাসির খান, উত্তম কুমার, মোস্তফা কামাল, শেখ জাফিরুল ইসলাম, জি এম রফিকুল হাসান, মাহবুব হাসান পিয়ারু, সাব্বির খান, শরিফুল আনাম, ময়েজ উদ্দিন চুন্নু, মেহেদী হাসান সোহাগ, শাকিল আহমেদ, হাসনা হেনা, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার স্বাধীনতা উত্তরকালের কলংকজনক গণহত্যা শুরু করেছে। পুলিশ-বিজিবি’র নির্বিচারে গুলি বর্ষনে মৃত্যুর মিছিলে লাশের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আলেম ওলামাদের হত্যা দিয়ে শুরু করার পর এবার নারী-শিশুরা বুলেটের ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পুলিশের সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সসস্ত্র ক্যাডাররা যুক্ত হয়ে নারকীয় তান্ডব শুরু করেছে। খুলনা মহানগর যুবলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলুর নেতৃত্বে বিএনপি নেতা ওমর ফারুকের বাড়িতে হামলা হয়েছে এবং সেখান থেকে ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান জাদুসহ দুই জনকে বেদম প্রহার করেছে ক্যাডার বাহিনী। হরতাল ঠেকাতে যুবলীগ ক্যাডার ফেরদৌস হোসেন হিরু এবং খালিশপুরে আওয়ামী লীগ নেতা টোনা-মনি বাহিনী সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি দেব দুলাল বাড়ৈ বাপ্পির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা আমার দেশ পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করেছে এবং মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অশালিন কটুক্তি ও শ্লোগান দিয়েছে। বক্তারা বলেন, জুলুম নির্যাতন ও নৈরাজ্য চালিয়ে মতায় টিকে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে। সারা দেশ অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে গণবিস্ফোরনে সরকারের পতন ঘটবে। বক্তারা খুলনায় শান্তিপূর্ণভাবে সর্বাত্মক হরতাল পালন করায় নগরবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।