
তিনি বলেন, সরকারপ্রধান যতই উচ্চৈঃস্বরে বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করুন না কেন তাবেলা হত্যাকা- থেকে শুরু করে জুলহাজ মান্নান, মাহবুব তনয় ও রুস্তম আলী পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকা-ের দায় এই সরকারকেই নিতে হবে। তিনি যতই উদোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করুন না কেন, জাতীয় অর্থনীতির হরিলুট, রাজকোষ চুরির ঘটনা এড়াতে যতই অপকৌশল করুন না কেন জনগণের দৃষ্টিকে ঝাপসা করতে পারবেন না। ভোটারবিহীন সরকারকে এ জন্য জনগণের নিকট জবাবদিহি করতেই হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বিপজ্জনক। দেশের মানুষ এক ভয়াল নৈঃশব্দের মধ্যে আতঙ্কে দিন যাপন করছে। ব্যাংকার, শিক্ষক, এনজিও-কর্মী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ছাত্র, নারী, শিশুসহ অনেককেই রাষ্ট্রযন্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে জীবন দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেন একটি পিশাচ দ্বীপে বসবাস করছি। সুস্থ পরিবেশে গণতন্ত্র চর্চা এখন কেবলমাত্র কবরেই সম্ভব।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণেই ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা উৎসাহিত হয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে, ব্যালট পেপারে বেপরোয়া সিল মারে এবং অস্ত্রের মুখে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়, খুন-জখমসহ নানাবিধ অনাচারে লিপ্ত থেকে দেশকে অতল গহ্বরের দিকে ঠেলে দেয়। এসব কারণে দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন আর স্বাভাবিক মৃত্যুর আশা করে না।
বেগম খালেদা জিয়া দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু সাংবাদিক মাহবুব রাব্বী তনয় এবং কারারক্ষী রুস্তম আলীকে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামপ্রতিক এসব হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এখন দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য। দেশকে সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে রক্ষা করতে জনগণের ঐক্যের বিকল্প নেই।