
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, জানুয়ারি মাসে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং হাটহাজারীতে তিনটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনটি ঘটনাতেই তারা দ্রুত ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। অপহরণকারীদেরও তারা গ্রেপ্তার করতে পেরেছেন।
জেসমিন আক্তার জানান, ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে দুজন অজ্ঞাতপরিচয় লোক তাদের বাসায় আসে। কলিংবেল দিলে তিনি দরজা খুলে দেন। এসে তারা কবির তাদের পাঠিয়েছে বলে জানায়। তারপর কবিরের মোবাইল নাম্বার চেয়ে নেয় তারা।
এসময় ৭-৮ জন মুখোশপরিহিত যুবক ভেজানো দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে যায়। তারা জেসমিন আক্তারের মুখ বেঁধে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। এরপর আপনের হাত, পা ও মুখ বেঁধে তাকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এসময় জেসমিন আক্তার চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে তার গলা টিপে ধরে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওইদিনই জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। একমাত্র ছেলেকে ?অপহরণের কথা শুনে দুবাই থেকে দ্রুত দেশে আসেন কবির।
আপন জানায়, অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে দুর্বৃত্তরা মারধর করে।
মো. কবির জানান, দুবাইয়ে মোস্তফা নামে তাদের গ্রামের একজনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। কবির মোস্তফ?ার বিরুদ্ধে সেদেশের বাংলাদেশ হাইকমিশনে অভিযোগ করেন। এতে মোস্তফা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়। মোস্তফা লোক ভাড়া করে দিদারুলের মাধ্যমে তার ছেলেকে অপহরণের পরিকল্পনা করে।
হাটহাজারী থানার ওসি মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, মামলা দায়েরের পর তারা হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয় অপহরণকারীকে আটক করেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আপনকে খাগড়াছড়ির গুইমারায় জনৈক আলী হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন।
আটক ছয়জন হলো, আন্তঃজেলা অপহরণ চক্রের মূল হোতা নূরউদ্দিন, শিপলু নাথ, অপু দাশ, মো. ওসমান, মো. সোহেল এবং নুরুদ্দীন। এদের মধ্যে অপু দাশ ও ওসমান পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক।
পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, ১৬ জানুয়ারি ফারজানা নামে ২০ বছরের এক তরুণীকে রাউজান থেকে এবং ১৭ জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়া থেকে সায়মা নামের ৯ বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। ফারজানার জন্য পাঁচ লাখ টাকা এবং সায়মার জন্য ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারজানা ও সায়মাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের পাশাপাশি চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।