
শনিবার স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে শুক্রবারের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বুধবার অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল বালি।
বুধবারের ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে, এখন থেকে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কেবল স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজ করতে হবে। নির্মাণ কাজে জড়িত সব শ্রমিকের সঙ্গে পরিচয়পত্র, ইউনিফর্ম ও হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আগামী রোববার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে স্কুলের নিয়মিত পাঠদান শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে বুধবারের বৈঠকে।
এদিন সকালে সেন্ট স্কলাসটিকার প্রধান শিক্ষকের সম্মেলন কক্ষে জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের বৈঠক চলাকালে ছাত্রী নিপীড়নকারী নির্মাণ শ্রমিকদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবকরা।
বুধবারের বৈঠকে স্কুল কর্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে স্কুল সূত্র।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন বলেন, অপ্রীতিকর ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পাথরঘাটা সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুলের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মাণ শ্রমিকদের অশোভন আচরণের কারণে অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে শনিবার পর্যন্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত সোমবার ভবন নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকরা কয়েকজন ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে এবং তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
ওইদিন অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুলের ভেতরে পুরুষ অভিভাবকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না কিন্তু বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কোনো ধরণের প্রাচীর ছাড়াই স্কুলের ভেতর নির্মাণ কাজ করছে। শ্রমিকরা প্রায় প্রতিদিনই ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। এমনকি ছাত্রীরা এ বিষয়ে ক্লাসে শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করলেও তা ধামাচাপা দেওয়া হয়।